হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনে বহু উচ্চ শিক্ষিত এমনকি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত এআই -এর বহুল ও ব্যাপক ব্যবহারের কারণে উচ্চ বেতনের চাকরি হারিয়ে নিম্ন আয়ের দিন মজুর ও শ্রমিকের পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে!!!
যে ভাবে এআই ও রোবোটের ব্যবহার বাড়ছে তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের দিনমজুরের কাজ পাওয়াও দুষ্কর ও কঠিন হয়ে যাবে।
অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এআই সাধারণ মানুষের বাড়া ভাতে দেবে ছাই !!!
আর মানব জাতি এভাবে বেকার হয়ে পড়লে খাবে কী এবং আয় রোজগার বিহীন হয়ে কিভাবে জীবন যাপন করবে?!!!
শত শত কোটি মানুষের বেকার ভাতার ব্যবস্থা ও অন্ন সংস্থান করবে কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রসমূহ?!!
এআই-এর জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়। তাই যেভাবে এআই-এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাড়ছে তাতে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও পানি দিয়ে এআই-এর বহুল, ব্যাপক ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সামাল দেওয়া যাবে কিভাবে? বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পানীয় জলের অভাব ভবিষ্যতে আরো তীব্রতর হবে।মানুষ পানি খাবে নাকি পানি বিহীন হয়ে শুধু এআই ব্যবহার করবে?!!!
পানি না পেলে জীবন যাপন করবে কিভাবে?পানি না পেলে মানুষ মরেই যাবে তখন এআই ও রোবোট রাজত্ব করবে পৃথিবীতে!!!!
নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত ও বিবেক বোধহীন মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞান মনস্কতাই (?!) অবশেষে মানবজাতিকে ধ্বংস ও বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাবে।
বিজ্ঞান মনস্কতা আসলে আকলে আফযারী (عقل افزاری instrumental mechanical rationalism, rationalility and intellect যান্ত্রিক বুদ্ধিবৃত্তি ও বুদ্ধিমত্তা) যা আধুনিক চোর-বাটপার বদমাইশ গোছের লোকদের বেশি আছে।
পাশ্চাত্যে আসলে তথাকথিত রেনেসাঁর পরে যে rationalism,intellect ও rationalility -এর বিকাশ ঘটেছে ও উন্মেষ হয়েছে তা নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত, বিবেকবোধ পরিপন্থী ও ধর্মবোধ বৈরী rationalism, rationalility ও intellect অর্থাৎ ধর্ম বৈরী,বিবেকবোধ পরিপন্থী ও নীতিনৈতিকতা বিরোধী যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি।
তাই বিবেকবোধ ও ধর্মবোধ পরিপন্থী চোর,বাটপার,ঠগ ও বদমাইশ প্রকৃতির লোকেরা (আধুনিক পশ্চিমারা) বিবেকবোধহীন, নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত ও ধর্ম বিরোধী হয়ে ও যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিধ্বংসী বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করছে যেগুলোর মধ্যে রয়েছে এআই ও বোবোট এবং এভাবেই মানবজাতিকে বিলুপ্তি ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এর আগে নাস্তিক বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিং ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল:মানবজাতি বিশ্ব উষ্ণায়ন, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ও সামগ্রীর মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ ও এআই ব্যবহারের কারণে আগামী ১০০০ বছরের মধ্যে ডায়নোসরের মতো এ পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে!!
আকল-ই আফযারী (عقل افزاری) অর্থাৎ যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি (instrumental mechanical rationalism,rationalility and intellect) হচ্ছে কোনো বিষয় প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠিত বা খণ্ডন ও অপনোদন করার জন্য যুক্তি ও দলীল-প্রমাণ উপস্থাপনের (ইস্তিদলাল استدلال) ক্ষমতা বা কোনো কিছু তৈরি ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা বা সমস্যা সমাধানের পথ ও উপায় বের করার ক্ষমতা।
এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তি কমবেশি সবার আছে যা সাধারণ প্রচলিত অর্থে বুদ্ধি, চালাকি,চতুরতা,ছল-ছাতুরী বলে প্রসিদ্ধ। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তি শুধু এটাই নয় বরং বুদ্ধিবৃত্তির বিভিন্ন পর্যায় ও ধাপ আছে যেমন: নীতিনৈতিকতা বোধ (আকল-ই আখলাকী عقل اخلاقی) এবং ধর্মানুভূতি ও ধর্মবোধ (আকল-ই দ্বীনী, ফিতরাত-ই তাদাইয়ুন), বিবেকবোধ (ওয়িজদান وجدان)।
এ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দুই বুদ্ধিবৃত্তির অভাবে যান্ত্রিক বুদ্ধিবৃত্তি ও বুদ্ধিমত্তা বল্গাহীন ও লাগামহীন হয়ে যায়। চোর, বাটপার, ডাকাত, অপরাধী, যালিম ও দুর্নীতি পরায়ণ ব্যক্তিদের আকল-ই আফযারী (যান্ত্রিক বুদ্ধিবৃত্তি ও বুদ্ধিমত্তা) অনেক অনেক শক্তিশালী কিন্তু তাদের আকল-ই আখলাকী (নীতিনৈতিকতা বোধ), বিবেকবোধ,ধর্মানুভূতি ও ধর্মবোধ হয় নেই বা খুবই দুর্বল। বরং তাদের মধ্যে নাফসানীয়াত ও হাওয়ায়ে নাফস, রিপু ও প্রবৃত্তি (শাহওয়াত) অত্যন্ত শক্তিশালী যার বশীভূত হয়ে যায় আকল-ই আফযারী (যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি)।আর এখান থেকেই তখন আপদ-বিপদ ও বিপত্তি শুরু হয়ে যায়।
বিজ্ঞান,প্রযুক্তি,কলাকৌশল এবং এর ধারাবাহিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি আকল-ই আফযারীর (যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি) ফল ও পরিণতি। তাই যাদের মাঝে আকল-ই আফযারী চূড়ান্ত পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে তারা যে আবশ্যিক ভাবে ভালো সৎ,বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ-মুনসিফ মানুষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
পশ্চিমাদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আকল-ই আফযারীর (যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি) বিকাশ হয়েছে;কিন্তু তারা কি নীতিনৈতিকতা (আখলাক),বিবেকবোধ,ধর্মবোধ ও ধার্মিকতার দৃষ্টি কোণ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে না?!!!
নীতি নৈতিকতা,বিবেক,ন্যায়পরায়ণতা (ন্যায়-অন্যায়) ও ধার্মিকতার বিবেচনায় পশ্চিমারা এবং তাদের অনুসারীরা চরমভাবে অধঃপতিত এবং হিংস্র চতুষ্পদী জন্তু-জানোয়ারের চাইতেও অধম,পতিত ও পথভ্রষ্ট (বাল হুম আদ্বল্ল্ بل هم أضلّ) এবং অধিক পাষণ্ড ও হিংস্র। স্মর্তব্য যে পাশ্চাত্যে আকল-ই আফযারীর ব্যাপক বিকাশ তথাকথিত রেনেসাঁ উত্তর শতাব্দী গুলোয় হয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত আছে।
শক্তিশালী বল্গাহীন লাগামহীন রিপু ও প্রবৃত্তির অধীনে আকল-ই আফযারীর (যান্ত্রিক বুদ্ধিবৃত্তি ও বুদ্ধিমত্তা) চূড়ান্ত বিকাশ মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ও হুমকি যা এআই সংক্রান্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের সাম্প্রতিক উক্তি এবং মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাব্য কারণ সমূহ সংক্রান্ত নাস্তিক্যবাদী বিজ্ঞানী প্রয়াত স্টিফেন হকিং-এর বক্তব্য থেকেও ভালো ভাবে বোধগম্য হয়ে যায়।
মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট